"মুখর বাদল দিনে..."
আজি মুখর বাদল দিনে---
মেঘমল্লার তোলে ঝঙ্কার, খুশি খুশি মনোবীণে।
মেঘের 'পরে মেঘ জমে যায়, আঁধার ঘনায় বেশ,
নীল নীলিমায় আবেশ ঘনায়, থাকে তার স্মৃতিরেশ!
দেখি তারই মাঝে অপরূপ সাজে, রূপে ও অরূপে তায়,
মেঘের ছায়ায়, সজল মায়ায় ঘিরে থাকে মমতায়।
বৃক্ষলতায় ডাক দিয়ে যায় ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি,
আবার পদ্মপাতায় জলের ফোঁটায় কী অপরূপ সৃষ্টি।
স্বতঃ পড়ে মনে বর্ষার গানে অফুরান সুধা ঝরে,
পুবালি বাতাস ফেলে নিশ্বাস কভু পরিণত ঝড়ে।
নতুন ভাবের উদ্দীপনায়, মনের সায়রে ঢেউ তুলে যায়,
কখনও-বা শিখী কলাপ মেলিয়া কেকাধ্বনিও গায়।
বৃষ্টির ফোঁটা, যূঁইফুল ফোটা বসে দেখা নদীতীরে,
সৃষ্টি-বাঁচানো বৃষ্টিধারায় কৃষ্টি সিক্ত নীরে।
মনে পড়ে যায় কী অবলীলায় উজ্জয়িনীর কথা,
মহাকবির অমর কাব্যে 'মেঘদূত' আসে সেথা।
বিরহী সে-হিয়া যক্ষের প্রিয়া অলকাপুরীতে একা,
মেঘ ভেসে যাবে, পথ পার হবে, তবেই পাবে সে দেখা।
মুগ্ধ নয়নে চাহি মেঘপানে, অনুভবে বুঝি তাহা,
মুখর বাদরে মন ভ'রে যায়, প্রতিবেশ রচে আহা!
জলায়-নালায় ভেক ডেকে যায় শোভন মিলনক্ষণে,
বাজ-বিজলির খেলা চলে তবু কত উল্লাস মনে।
সবকিছু নিয়ে মাধুরী মিশায়ে বর্ষা যে বড় সুন্দর,
বরষা বিহনে বাঁচিব কেমনে, হবে এ-প্রকৃতি মনোহর?